Wednesday, March 11, 2015

Advice to 'Umar ibn 'Abdul-'Aziz from Al-Hasan al-Basri

When 'Umar ibn 'Abdul-'Aziz became Caliph, he wrote to Al-Hasan al-Basri to write him the description of a just Imam, and Hasan wrote him

"Know, Commander of the Believers, that God has made the just Imam the prop of every learner, the straightener of every deviator, the reform of all corrupt, the strength of all weak, the justice of all oppressed, the refuge of all who are pitied. The just Imam, O Commander of Believers, is like a herdsman, solicitous for the camels he tends, desiring the sweetest pasture for them, driving them away from any dangerous grazing place, protecting them from beast of prey, and shielding them from the harms of heat and cold.
And the just Imam, Commander of the Believers, is the guardian of the orphan, and the treasury of the poor, fostering the little ones, and providing for the old ones. The just Imam, Commander of Believers, is as the heart is to the members of the body: all are sound when it is sound, and all corrupt when it is corrupt. The just Imam, Commander of Believers, stands intermediary between God and His servants; hearkening to God's words, and making them hearken; looking to God, and making them to look; obedient to God and making them obedient.
Therefore, Commander of the Believers, act not in what God the Mighty and Glorious has given you like a slave whose master has trusted him and given into his care his wealth and his children, who then squanders his master's wealth and drives his children away, and reduces the family to poverty and scatters their fortune.
And know, Commander of the Believers, that God has sent down (His prescription for) the legal punishments to chide (people) away from wickedness and immorality. How shall it be, if he who administers them, deserves them? And He sent down (the law of) retaliation to give life to His servants. How will it be if the man who gives them retaliation puts them to death?
Remember, O Commander of the Believers, death and what comes after it, and how few partisans you have there, or aids against it. Therefore make provision for death, and against the greater terror which follows it.
And know, Commander of the Believers, that there is a place for you other than the place where you are now. Your stay there will be long, and your friends will be separated from you. You will be committed to its depths as a completely solitary individual. Therefore, make provision of what you may take with you.
"On the day when a man shall flee from his brother, his mother, his father, his consort, his sons." [Al-Qur'an 80:36]
And remember, Commander of the Believers:
"When that which is within the tombs shall be cast out, and that which is in the breasts exposed." [Al-Qur'an 100:9],
 when secrets are made manifest, and "The record leaves nothing, great or small, without numbering it." [Al-Qur'an 18:49]
And now, Commander of the Believers, you are in leisure, before the dissolution of death and the serving of hope. Therefore, Commander of Believers, do not give judgement among the servants of God according to the usages of pre-Islamic period (bi hukum al-jahiliyyah), and do not travel the way of transgressors with them, and do not put he arrogant in power over the humble, for such will not watch over any believer or the protected religious groups (dhimma), so that you will have to acknowledge your own faults and the faults of others, and bear your own burdens and other burdens too. Do not be deceived by those who would lead a pleasant like by causing damage to you, and eat the good things of this world by causing the good things of your afterlife to disappear. And do not regard your power in this world, but look toward what will be your power when you are captive in the bonds of death, and forced to stand before God Most High in the company of the angels and prophets and apostles, and faces are turned to the Living and Self-subsisting One.
And I, O commander of Believers, though I have not attained by my rigors what prudent men attained before me, yet have not desisted from offering you solicitude and advice, sending you my letter as a doctor causes a beloved friend to drink disagreeable medicine, because he hopes to offer him health and soundness.
And peace be upon thee, O Commander of the Believers, and the mercy of God, and His blessing."


Source:
Recorded by Ibn 'Abd-Rabbiji (d. 328H / 940CE), 
taken from The Necklace (an enclopedic anthology) as found in Williams (1971), 
Themes of Islamic Civilisation, from, Al-Iqd al-Farid, Cairo, 1953.

একটি কার্যকর দিনের জন্য ৭ টি লক্ষ্য- সূরা আল-ফাতিহা

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় ভাই ও বোনেরা,

আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন। আমরা সকলেই চাই আমাদের জীবনের প্রতিটি দিন হোক কার্যকর। খোঁজার চেষ্টা করি কোথায় আমাদের লাভ, কিসে আমাদের উন্নতি। শেখার চেষ্টা করি আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান উপকরণ অর্থাৎ সময়কে কীভাবে কাজে লাগানো যায়। এজন্য আমরা লক্ষ্য স্থির করি এবং নিজেদের দক্ষতার উন্নতি ঘটানোর চেষ্টা করি, যাতে লক্ষ্য পূরণ করতে পারি।

এখন প্রশ্ন হল, এই লক্ষ্যগুলো কী আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে আমাদের জন্য সহায়ক? কিংবা আমাদের কোন ধরনের লক্ষ্য স্থির করা উচিত যেগুলো আমাদের প্রতিদিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি একটি কার্য্যকর দিন পেতে সহায়তা করবে এবং ইনশা আল্লাহ ধীরে ধীরে নিয়ে যাবে জান্নাতের দিকে?

সুবহান আল্লাহ! মহান আল্লাহ নিজেই আমাদের জন্য এর উত্তর দিয়ে দিয়েছেন কুরআনের ৭ টি ছোট্ট আয়াতের মাধ্যমে, যার নামকরণ করা হয়েছে- আল-ফাতিহা- ভূমিকা
 
সূরা আল-ফাতিহা

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আসুন কথা না বাড়িয়ে জানার চেষ্টা সেই ৭ টি লক্ষ্য সম্পর্কেঃ

১. যে কোন কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলুনঃ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
[সূরা আল-ফাতিহাঃ ০১]

আপনার দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজ শুরু করুন আল্লাহর নামে। এতে আপনার প্রতিটি কাজ হবে বরকতময় ও সফল। এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, প্রতিটি  গুরুত্বপূর্ণ কাজ যাতে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয় না তার বরকত কমে যায়[১]

২. প্রতিনিয়ত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুনঃ

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।
[সূরা আল-ফাতিহাঃ ০২]

একজন প্রকৃত মুসলিম সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে। সে অত্যন্ত সুচারুরূপে তার চারপাশ অবলোকন করে এবং প্রতিনিয়ত তার প্রতি আল্লাহর রহমতের জন্য শুকরিয়া আদায় করে। আর এই অভ্যাসটির চর্চা যে কোন আঘাতমূলক পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে এবং একটি চাপমূক্ত জীবন যাপনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিবে।

৩. সহানুভূতিশীল ও দয়ালু হোনঃ

যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।
[সূরা আল-ফাতিহাঃ ০৩]

আল্লাহর সুন্দরতম গুণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল তিনি নিতান্ত মেহেরবান ও পরম দয়ালু। আমাদেরও উচিত এই গুণগুলো নিজেদের মধ্যে ধারণ করা এবং আমাদের আশেপাশের মানুষদের প্রতি দয়াশীল হওয়া।  গরীব রিক্সাওয়ালাটিকে ২/৪ টাকা বেশি দিলে কিংবা আপনার বাসার কাজের মেয়েটিকে নিজেরা যা খান তা-ই খাওয়ালে আপনার খুব ক্ষতি হবে না নিশ্চয়?

৪. নিয়মিত বিচার দিবসকে স্মরণ করুনঃ

যিনি বিচার দিনের মালিক।
[সূরা আল-ফাতিহাঃ ০৪]

প্রতিনিয়ত নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিন এই দুনিয়া তো কেবল খেল-তামাশা ও আমোদ-প্রমোদ এর জায়গা। খুব শীঘ্রই সে দিনটি আসবে যেদিন আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) এর কাছে আমাদের ভালো কিংবা খারাপ প্রতিটি কাজেরই হিসেব দিতে হবে। আর ইনশা আল্লাহ কিয়ামতকে স্মরণের এই অভ্যাসটি আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের (পরকালের) মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে। এজন্য প্রতিদিন রাতে সূরা মুল্‌ক (৬৭ নং) তিলাওয়াত করুন।

৫. শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুনঃ

আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।
[সূরা আল-ফাতিহাঃ ০৫]

মনে রাখবেন, আল্লাহ সবসময় আপনাকে সাহায্য করার জন্য মুখিয়ে আছেন। তিনি আপনার থেকে মাত্র একটি দুআ দূরে অবস্থান করছেন। এ ব্যাপারে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমাদের যার যা কিছু প্রয়োজন আল্লাহর কাছে চাও। এমনকি যদি তা একটি জুতার ফিতাও  হয়।[২] তাই আমাদেরকে সকল ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহর (সাহায্যের) উপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে, দুআর মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে এবং ধৈর্যধারণ করতে হবে।

৬. সুন্নাহর অনুসরণ করুনঃ

আমাদেরকে সরল পথ দেখাও।
[সূরা আল-ফাতিহাঃ ০৬]

আর এই সরল পথ হচ্ছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দেখানো পথ অর্থাৎ তাঁর কথা, কাজ ও মৌন সম্মতি। তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন অল্প অল্প করে দ্বীনের ব্যাপারে জানা। বিশেষ করে প্রতিদিন একটি করে নতুন সুন্নাহ শেখা ও দৈনন্দিন জীবনে কুরআনের অনুশাসনগুলো সম্পর্কে জানা এবং সেই অনুযায়ী আমল করা।

৭. ভালো কাজ করুন ও দ্বীনদার সঙ্গীর খোঁজ করুনঃ

সে সমস্ত লোকের পথ যাদেরকে তুমি নিআমত দান করেছ। তাদের পথ নয় যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
[সূরা আল-ফাতিহাঃ ০৭]

সবসময় ভালো কাজ করার চেষ্টা করুন এবং তাদের সাহচার্য কামনা করুন যাদের সাক্ষাত আপনাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মনোযোগ দিয়ে জুমুআর খুতবাহ শুনুন এবং বিভিন্ন দ্বীনের হালাক্বায় (Study Circle) যোগদানের চেষ্টা করুন।

এই ৭ টি লক্ষ্য স্থির করে কাজ করার চেষ্টা করুন। ইনশা আল্লাহ আপনার জীবনের প্রতিটি দ্বীন হবে সফল ও বরকতময়।

পাদটীকাঃ
[১] সুনানে আন-নাসাই
[২] আত-তিরমিযি [ভাবানুবাদ]
 

মূল লেখকঃ সানা গুল ওয়াসীম
অনুবাদঃ মুসাফির শহীদ

Monday, March 9, 2015

কিভাবে আমি আটজন সন্তান মেধাবী ও ধর্মভীরু হিসেবে বড় করার চেষ্টা করছি

Tuesday, March 3, 2015

যেদিন পানির জাহাজ ডাঙ্গায় চলল......(তুরস্কের ইস্তাম্বুল বা কন্সট্যান্টিপোল বিজয়াভিযান)






আজও তুরস্কের অনেক পিতামাতা তাদের আদরের সন্তানের নাম 'মুহাম্মাদ ফাতেহ' রেখে থাকেন।কেননা এ নামটি ইসলামী ইতিহাসের একটি গৌরবময় অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।উসমানী খিলাফতের সপ্তম খলীফা সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ (রহ) ছিলেন একজন মুজাহিদ সুলতান ,যাঁর মাধ্যমে নবী করিম (সাঃ) এর এর একটি ভবিষ্যতবাণী সত্য হয়েছে।হযরত বিশর বিন সুহাইম(রাঃ) থেকে সে ভবিষ্যত বাণীটি বর্ণিত হয়েছে-

لتفتحن القسطنطنية فلنعم الأمير أميرها ولنعم الجيش ذلك الجيش

"নিশ্চয়ই তোমরা কন্সট্যান্টিপোল বিজয় করবে।তার আমীর উত্তম আমীর হবে এবং সেই বাহিনী উৎকৃষ্টতম সেনাবাহিনী হবে।"(মুসনাদে আহমদ ৪/৩৩৫, হাদীস : ১৮৯৫৭; মুসতাদরাকে হাকেম ৫/৬০৩, হাদীস : ৮৩৪৯; মুজামে কাবীর, তাবারানী, হাদীস : ১২১৬)

মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি বাইজেন্টাইন সম্রাজ্যের রাজধানী কন্সট্যান্টিপোল জয় করেন।
১৬ই মুহরম ৮৫৫ হিজরী মোতাবেক ১৮ ফেব্রুয়ারী ১৪৪৫ খৃস্টাব্দে সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ (রহ) উসমানী খিলাফতের দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন।তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর,কিন্তু অসম সাহস,অতুলনীয় প্রজ্ঞা, নিপুণ রণকৌশল ও গভীর ঈমানী জযবায় অল্প সময়েই তিনি তাঁর পূর্বসূরীদের ছাড়িয়ে যান।

তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর তিনি খিলাফত পরিচালনা করেন।তাঁর শাসনামলে যেমন ইসলামের বিজয়াভিজানে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছিল তেমনি সকল শ্রেণীর ও ধর্মের মানুষ ন্যায়বিচার, জান-মালের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার লাভ করেছিল।প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল ইসলামী শাসনব্যবস্থার সুফল।
সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ(রহ) এর শাসনামল বিভিন্ন দিক থেকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।তবে যা তাঁকে উম্মাহর হৃদয়ে অমর করে রেখেছে তা হলো কন্সট্যান্টিপোল বিজয়।


ধর্মীয়,রাজনৈতিক ও ভৌগলিক দিক থেকে কন্সট্যান্টিপোল ছিল পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর।খৃস্টীয় তৃতীয় শতক থেকেই তা ছিল বাইজেন্টাইন সম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নগরী।কন্সট্যান্টিপোল নগরীর তিন দিকে জল, একদিকে স্থল।পশ্চিমে বসফরাস প্রণালী,দক্ষিণে গোল্ডেন হর্ণ ও উত্তরে মারমারা উপসাগর।তাই ভৌগলিক দিক অবস্থানের কারণে একে তখন বিশ্বের সুরক্ষিত নগরীগুলোর মধ্যে গণ্য করা হত।এছাড়া নগরীর প্রতিরক্ষাব্যাবস্থাও ছিল অতুন্ত শক্তিশালী। গোটা নগরীর চারপাশে ছিল একাধিক দুর্ভেদ্য প্রাচীর ও সার্বক্ষণিক সশস্ত্র প্রহরা।এসব কারণে কন্সট্যান্টিপোল ছিল সে বিচারে এক অজেয় দুর্গ।এখানে মনে রাখতে হবে যে, সে যুগটা মিসাইল ও যুদ্ধবিমানের যুগ ছল না। তাই উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলোই তখন নগরীর সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট ছিল।




কন্সট্যান্টিপোল জয়ের জন্য সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ(রহ) তৎকালীন বিশ্বের সর্বাধুনিক রণপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। সে সময়ের সবচেয়ে দূর পাল্লার কামান তিনিই তৈরি করেছিলেন।

প্রস্তুস্তি সমাপ্ত করার পর তিনি অভিযান আরম্ভ করেন।তার স্থল বাহিনী নগরীর পূর্ব দিকে অবস্থান নিল এবং নৌবাহিনীর জাহাজগুলো বসফরাস প্রণালীতে ছড়িয়ে পড়ল।কিন্তু বসফরাস প্রণালী থেকে 'গোল্ডেন হর্ণে' প্রবেশ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।কেননা গোল্ডেন হর্নের মুখ শিকল দ্বারা বন্ধ করা দেওয়া হয়েছিল এবং বাইজেন্টাইন রণতরীগুলো সেখানে অবস্থান নিয়ে গোলা নিক্ষেপ করছিল। 

প্রচন্ড যুদ্ধের পরও উসমানী নৌবহর গোল্ডেন হর্ন পদানত করতে সক্ষম হল না।অন্যদিকে বন্দর সুরক্ষিত থাকায় বাইজেন্টাইন বাহিনী তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল পূর্বদিকে,সুলতানের স্থল বাহিনীকে মোকাবেলা করার জন্য।তাই তাদের শক্তিকে বিভক্ত করার জন্য এবং দুই দিক থেকে একযোগে আক্রমণ করার জন্য উসমানী নৌবহরের গোল্ডেন হর্নে প্রবেশ করা ছিল অপরিহার্য। প্রায় দুই সপ্তাহ অবিরাম যুদ্ধের পরও নৌপথে বিজয়ের কোন লক্ষণ দেখা গেল না।অবশেষে সুওলতান মুহাম্মাদ ফতেহ এমন এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যা পৃথিবীর যুদ্ধের ইতিহাসে একমাত্র বিরল ও বিস্ময়কর হয়ে আছে।পাশ্চাত্যের কট্টর ঐতিহাসিকরা পর্যন্ত এ ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ না করে পারেনি। গিবনের মত ঐতিহাহিকও একে 'মিরাকল' বলে আখ্যায়িত করেছেন।


সুলতান ফাতেহ (রহ),মুজাহিদদের আদেশ দিলেন রণতরীগুলো ডাঙ্গায় তুলে দশ মাইল পথ অতিক্রম করে গোল্ডেন হর্নে নামাতে হবে, এই দীর্ঘ পথ পুরোটাই ছিল পাহাড়ী উঁচুনিচু ভূমি। এর উপর দিয়ে সত্তরটি রণতরী টেনে নেয়া ছিল এককথায় অসম্ভব।কিন্তু সুলতান ফাতেহ এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন। 
পুরো পথে কাঠের পাঠাতন বিছানো জল, তাতে চর্বি মাখিয়ে পিচ্ছিল করা হল এবং এর উপর দিয়ে রণতরীগুলো টেনে নিয়ে যাওয়া হল।এভাবে টিলা ও পাহাড়ের উপর দিয়ে রাতের মধ্যে সত্তরটি রণতরী তিনি গোল্ডেন হর্ণে প্রবেশ করাতে সক্ষম হলেন।


সত্তরটি জাহাজের এই মিছিল সারারাত্রি মশালের আলোতে ভ্রমণ করেত থাকে। বাইজেণ্টাইন সৈন্যরা কন্সট্যান্টিপোলের প্রাচীর থেকে বসফরাসের পশ্চিম তীরে মশালের দৌড়াদৌড়ি লক্ষ্য করে।কিন্তু অন্ধকারের কারণে কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি।অবশেষে ভোরের অয়ালো যখন রহস্যের পর্দা উন্মোচন করে দেয়,ততক্ষণে মুহাম্মাদ ফাতেহের সত্তরটি রণতরী ও ভারী তোপখানা গোল্ডেন হর্নের উপরাংশে পৌঁছে গেছে। গোল্ডেন হর্নের মুখে প্রহরারত বাইজেন্টাইন নৌ সেনারা বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে দেখল যে, উছমানী রণতরীগুলো মৃত্যুদূতের মতো তাদের পিছন দিক থেকে ধেয়ে আসছে। এই ঘটনা ত্থেকে একটি প্রবাদ তৈরি হলঃ"যখন পানির জাহাজ ডাঙ্গায় চলবে তখন বুঝবে কন্সট্যান্টিপোলের পতন অত্যাসন্ন।"

চূড়ান্ত আক্রমণের আগে সুওলতান মুহাম্মাস ফাতেহ(রহ) বাইজেন্টাইন সম্রাট কন্সট্যান্টিনকে নগরী সমর্পণের পয়গাম পাঠালেন এবং নগরবাসীর জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলেন, কিন্তু সম্রাট তা গ্রহণ করলেন না।এবার সুলতান চূড়ান্ত আক্রমণের প্রস্তুতি নিলেন।


ঐতিহাহিকগণ লেখেন,আক্রমণের আগে সুলতান ফাতেহ(রহ) বাহিনীর অধিনায়কদের তলব করে সকল মুজাহিদিকে এই পয়গাম পৌঁছে দেওয়ার আদেশ করলেন যে,কন্সট্যান্টিপোলের বিজয় সম্পন্ন হলে রাসূলুল্লাহ(সাঃ)-এর একটি ভবিষ্যত বাণী সত্য হবে এবং তাঁর একটি মুজিজা প্রকাশিত হবে। অতএব কারো মাধ্যমে যেন শরীয়াতের কোন বিধান লঙ্গিত না হয়।গীর্জা ও উপসানালয়গুলোর যেন অসম্মান না করা হয়,পাদ্রী,মহিলা,শিশু এবং অক্ষম লোকদের যেন কোন ধরনের কষ্ট না দেওয়া হয়...।।'

৮৫৭ হিজরীর ২০ জুমাদাল উলার রজনী মুজাহিদগণ দুয়া ও ইবাদাতের মধ্যে অতিবাহিত করেন। ফজরের নামাজের পর সুলতান চূড়ান্ত আক্রমণের আদেশ দিলেন এবং ঘোষণা করলেন যে ,"ইনশাআল্লাহ আমরা যোহরের নামাজ সেন্ট সুফিয়ার গীর্জায় আদায় করব।"

দ্বিপ্রহর পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে ভীষণ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলতে থাকে।কিন্তু বাইজেন্টান বাহিনী অসাধারণ বীরত্বে একটি সৈন্যও শহরে প্রবেশ করতে পারেনি। অবশেষে সুওলতান তার বিশেষ বাহিনী ইয়ানাচারী বাহিনীকে সাথে করে সেন্ট রোমান্স এর ফটকএর দিকে অগ্রসর হন। ইয়ানাচারী বাহিনীর প্রধান আগা হাসান তার ত্রিশ জন বীর সঙ্গীকে সাথে করে প্রাচীরের উপর আরোহণ করেন।হাসান ও তার আঠার সাথীকে প্রাচীর থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। তারা শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন।অবশিষ্ট বারোজন প্রাচীরের উপর দৃঢ় অবস্থান করতে সক্ষম হন।তারপর উসমানী বাহিনীর অন্যান্য দলও একের পর এক প্রাচীরে আরোহণ করতে সক্ষম হন। এমনিভাবে কন্সট্যান্টিপোলের প্রাচীরে চন্দ্রখচিত লাল পতাকা উড়িয়ে দেয়া হয়।
 
বাইজেন্টাইন সম্রাট কন্সট্যান্টিন এতক্ষণ বীরত্বের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছিল।কিন্তু সে তার কিছু অসাধারণ বীর যোদ্ধার সাহস হারানোর পর নিরাশ হয়ে পড়ে।সে উচ্চস্বরে বলে-"এমন কোন খৃস্টান নেই কি, যে আমাকে খুন করবে।"
কিন্তু তার আহ্বানে সাড়া না পেয়ে সে রোম সম্রাট(কায়সারদের) বিশেষ পোশাক খুলে দূরে নিক্ষেপ করে,উসমানী সেনাবাহিনীর উন্মত্ত তরঙ্গের মধ্যে প্রবেশ করে সত্যিকার সৈনিকের মত বীরত্বের সাথে লড়তে লড়তে নিহত হয়।তার মৃত্যতে ১১০০ বছরের বাইজেন্টানের সেই রোম সম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে ,যার সূচনা হয়েছিল প্রথম কন্সট্যান্টিনের হাতে এবং বিলুপ্তও হল আরেক কন্সট্যান্টিনের হাতে । তারপর থেকে কায়সায় উপাধিই ইতিহাসের উপখ্যানে পরিণত হয়ে যায়। এভাবে ইহ-পরকালের সর্দার মহানবী(সাঃ) এর এই বাণী সত্যে প্রমাণিত হয়-"কায়সারের ধ্বংসের পর আর কোন কায়সার জন্ম নিবে না।"
 আল্লাহ তাআলা তাঁর মুজাহিদ বান্দার কথাকে সত্য করেছেন।জোহরের সময় সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ(রহ) বিজয়ীর বেশে কন্সট্যান্টিপোল নগরীতে প্রবেশ করেন। ইংরেজী তারিখ হিসাবে দিনটি ছিল ২৯ মে ১৪৫৩ ঈ.।সেন্ট রোমান্সের উপর(বর্তমান নাম TOP KOPY) উসমানী পতাকা উড়ছিল। সুলতান ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে সিদজায় পড়ে গেলেন।

নগরীর অধিকাংশ খৃস্টান সেন্ট সোফিয়ায় আশ্র্য় নিয়েছিল।সুলতান তাদেরকে অভয় দিলেন এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা দান করলেন।
এরপর আযান দেওয়া হল।সাড়ে এগারো শত বছর যাবৎ যেখানে 'তিন খোদা'র উপাসনা হচ্ছিল সেখানে আজ তাওহীদের ধ্বনি উচ্চারিত হল।সকল ছবি ও মূর্তি সরিয়ে ফেলা হল।মুসলিম বাহিনী জোহরের নামাজ সেন্ট সোফিয়ায় আদায় করল।


সুলতান ফাতেহ(রহ) একে মসজিদে পরিণত করার ফরমান জারি করলেন। কেননা প্রথমত কন্সট্যান্টিপোলের সম্রাট আত্মসমর্পণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল তাই সুলতান এই গীর্জাকে পূর্বাবস্থায় বহাল রাখতে বাধ্য ছিল না। তদুপরি এটি ছিল অর্থডক্স খ্রিস্টানদের কেন্দ্রীয় গীর্জা ।তাই এর সাথে বহু কুসংস্কার ও অলৌকিকতার বিশ্বাস জড়িত হয়েছিল। এই কুসংস্কারের মূলোৎপাটন প্রয়োজন ছিল।


কন্সট্যান্টিপোল বিজয়ের পর সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ(রহ) নগরীর খৃস্টন অধিবাসীদের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান করলেন এবং তাদেরকে তাদের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করেন।

কন্সট্যান্টিপোল বিজয়ের এই ঘটনার পর কন্সট্যান্টিপোল যা বর্তমানে ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত উসমানী খিলাফতের রাজধানীর রূপ লাভ করে এবং বহু শতাব্দী পর্যন্ত আলমে ইসলামীর মধ্যে তার বিশেষ গুরুত্ব ছিল।


 

তথ্যসূত্র-
১) জাহানে দিদাহ- শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী (দা বা)
২) Encyclopedia of Islam
৩) wikipedia
৪) ইসলামের ইতিহাস
৫) Encyclopedia of World History
৬) History of Decline & Fall of Roman Empire and History of Christianity- Edward Gibbon
৭)মাসিক আল-কাউসার 
৮) http://www.somewhereinblog.net/blog/ogropothik/29530110
 

রাসুল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বিদায় হজ্বের ভাষণ

দশম হিজরিতে রাসুল সাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম জীবনের শেষ হজ করেন। জিলহজ মাসের ৯ তারিখ দুপুরের পর জাবালে রহমতে দাঁড়িয়ে বৃহত্তম গণসমাবেশে জীবনের শেষ দিকনির্দেশনা দেন।

(এই ভাষণের পূর্ণরূপ সংরক্ষিত নেই। বুখারি শরিফে কিছু অংশ পাওয়া যায়, যা নির্ভরযোগ্য সূত্র বিবেচনায় উদ্ধৃত হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলো হলো_হাদিস নম্বর ১৬২৩, ১৬২৬ ও ৬৩৬১।)

১৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভাষণের সংশ্লিষ্ট অনুবাদ নিম্নরূপ :

# (জীবনাবসনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন)হে লোকেরা! আমার কথাগুলো মনোযোগসহ শ্রবণ করো। আমার মনে হয়, এরপর আর আমার পক্ষে হজের মহান আনুষ্ঠানিকতায় যোগদান করা সম্ভব হবে না।’

# (হত্যার বদলে হত্যা প্রথা বন্ধ করে বলেন )‘শুনে রাখো, অন্ধকার যুগের সব কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস আর অনাচার আজ আমার পায়ের নিচে দাফন করা হলো। বর্বর যুগের শোণিত-প্রতিশোধ প্রথা আজ থেকে রহিত করা হলো।… আমি সর্বপ্রথম আমার স্বগোত্রের প্রাপ্য সুদ এবং সব ধরনের রক্তের দাবি রহিত ঘোষণা করছি।… মনে রেখো! একজনের অপরাধে অন্যকে দণ্ড দেওয়া যাবে না। পিতার অপরাধে পুত্র এবং পুত্রের অপরাধে পিতাকে অভিযুক্ত করা চলবে না।’

# (সুদ প্রথা সম্পর্কে বলেন )অজ্ঞ যুগের সব সুদ আজ থেকে বাতিল করা হলো। আমি সর্বপ্রথম আমার স্বগোত্রের প্রাপ্য সুদ ও সব ধরনের রক্তের দাবি রহিত ঘোষণা করছি।’

# (নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের ব্যাপারে বলেন)যদি কোনো নাককাটা হাবশি ক্রীতদাসকেও তোমাদের আমির নিযুক্ত করা হয় এবং সে আল্লাহর কিতাব অনুসারে তোমাদের পরিচালনা করে, তাহলে তোমরা সর্বতোভাবে তার আনুগত্য করবে, তার আদেশ মান্য করবে। সাবধান!’

# (ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি সম্পর্কে বলেন)ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। এতদ্বিষয়ে সীমালঙ্ঘনের কারণে তোমাদের পূর্ববর্তী বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে। মনে রেখো! তোমাদের সবাইকেই আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে হবে। তাঁর কাছে এসব কথার জবাবদিহি করতে হবে। সাবধান, তোমরা খোদাদ্রোহী হয়ে পরস্পর রক্তপাতে লিপ্ত হয়ো না।’

# (অন্যের সম্পত্তি, ইজ্জতের হেফাজত সম্পর্কে বলেন)স্মরণ রেখো, আজকের এই দিন, এই মাস যেমন মহিমান্বিত, মক্কার হেরেম যেমন পবিত্র, প্রতিটি মুসলমানের ধনসম্পদ, সবার ইজ্জত-সম্ভ্রম এবং প্রতিটি মুসলমানের রক্তবিন্দু তোমাদের কাছে সে রকমই পবিত্র। আগের বিষয়গুলোর পবিত্রতা নষ্ট করা যেমন তোমরা পরিত্যাজ্য ও হারাম বলে জানো, তেমনি কোনো মুসলমানের সম্পদ, সম্ভ্রম ও জীবনের ক্ষতিসাধন তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ, মহাপাপ।’

# (মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ নেই সে ব্যাপারে বলেন)‘অনারবদের ওপর আরবদের প্রাধান্যের কোনো কারণ নেই। শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গেও ভেদাভেদ নেই। প্রাধান্যের মাপকাঠি হলো একমাত্র খোদাভীতি। মানুষ সবাই আদমের সন্তান আর আদম মাটি থেকে সৃষ্ট। জেনে রাখো, জগতের সব মুসলমান মিলে এক অবিচ্ছেদ্য ভ্রাতৃসংঘ।’

# (শেষ নবী এর ব্যাপারে বলেন) হে লোকেরা, জেনে রাখো, আমার পরে আর কোনো নবীর আগমন হবে না। আমি যা বলছি, মনোযোগ দিয়ে শোনো। এ বছরের পর হয়তো তোমরা আর আমার সাক্ষাৎ পাবে না। জ্ঞান উঠে যাওয়ার আগেই আমার কাছ থেকে শিখে নাও। চারটি বিষয় বিশেষ করে স্মরণ রেখো! (১) কখনো শিরক করো না, (২) অন্যায়ভাবে নরহত্যা করো না, (৩) অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করো না, (৪) কখনো ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ো না। সাবধান, কারো অসম্মতিতে তার সামান্য সম্পদও গ্রহণ করো না। জুলুম করো না। জুলুম করো না! কোনো মানুষের ওপর জুলুম করো না।’

# (শয়তান সম্পর্কে সাবধানবাণী দিয়ে বলেন)আমি তোমাদের কাছে যা রেখে যাচ্ছি, যত দিন তোমরা সেগুলো আঁকড়ে ধরে রাখবে, পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের সুন্নাত। হে লোকেরা, সাবধান! এমন অনেক বিষয়কে তোমরা ক্ষুদ্র বলে জ্ঞান করো, অথচ শয়তান তারই মাধ্যমে তোমাদের সর্বনাশ করে ছাড়ে। সে বিষয়গুলো সম্পর্কে খুবই সাবধান থাকবে।’

# (স্ত্রীদের প্রতি সদাচরণ সম্পর্কে বলেন)অতঃপর, হে লোকেরা! নারীদের বিষয়ে আমি তোমাদের সতর্ক করছি। তাদের প্রতি নির্দয় ব্যবহার করার সময় তোমরা আল্লাহর শাস্তির কথা ভুলে যেয়ো না। নিশ্চয়ই তোমরা তাদের আল্লাহর জামিনে গ্রহণ করেছ এবং তাঁরই কালাম দ্বারা তাদের সঙ্গে তোমাদের দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। মনে রেখো, তোমাদের সহধর্মিণীদের ওপর তোমাদের যেমন দাবিদাওয়া ও অধিকার রয়েছে, তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের দাবিদাওয়া ও স্বত্বাধিকার রয়েছে। পরস্পরকে নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করবে। স্মরণ রাখবে, এ অসহায়দের একমাত্র সহায় তোমরাই।’

# (দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার সম্পর্কে বলেন) স্মরণ রেখো, তোমাদের অধীন দাস-দাসীরা অসহায়-নিরাশ্রয়। সাবধান! তাদের ওপর কখনো জুলুম করবে না, তাদের অন্তরে আঘাত দেবে না। তোমাদের মতো তাদেরও একটি হৃদয় আছে। ব্যথা দিলে কষ্ট পায় আর আনন্দে আপ্লুত হয়। শুনে রাখো! ইসলামের নির্দেশ হলো, তোমরা যা খাবে দাস-দাসীদেরও তা-ই খাওয়াবে। তোমরা যা পরবে, তাদের তা-ই পরাবে। কোনো ধরনের তারতম্য করা চলবে না।’

# (আত্মপরিচয় অস্বীকারের বিষয়ে নিষেধ করে বলেন) যে নিজের বংশের পরিবর্তে নিজেকে অন্য বংশের বলে প্রচার করে, তার ওপর আল্লাহর, ফেরেশতাকুলের ও সমগ্র মানবজাতির অনন্ত অভিশাপ।’

# (কোরআনের বাণী প্রচা্রের ব্যাপারে বলেন )আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব রেখে যাচ্ছি। যত দিন তোমরা সে কিতাব অবলম্বন করে চলবে, তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। আজ যারা এখানে উপস্থিত আছ, তারা আমার এসব পয়গাম অনুপস্থিতদের কাছে পোঁছে দেবে। হতে পারে উপস্থিত কারো কারো থেকে অনুপস্থিত কেউ কেউ এর দ্বারা বেশি উপকৃত হবে।’

হজরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেড় লাখ সহচরের বিশাল হজ সমাবেশের মধ্যে তাঁর ভাষণের একেকটি বাক্য উচ্চারণ করছিলেন আর সম্মেলনস্থলের বিভিন্ন কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর নকিবরা সম্মিলিত কণ্ঠে তাঁর প্রতিধ্বনি করে বিশাল সমাবেশের সব প্রান্তে মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী পৌঁছে দিচ্ছিলেন। অতঃপর, রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম আকাশের দিকে মুখ তুলে বললেন, ‘হে আল্লাহ, আমি কি তোমার বাণী পৌঁছে দিয়েছি_আমি কি আমার দায়িত্ব পালন করেছি?’উপস্থিত জনতার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়_নিশ্চয়ই। নিশ্চয়ই। তখন মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহ, তুমি শোনো, সাক্ষী থাকো, তোমার দাসরা স্বীকার করছে, আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। হে আল্লাহ, তুমি সাক্ষী থাকো।’

.....................................................................................

এই মুহূর্তে কুরআনের শেষ আয়াতটি নাজিল হয়।

‘আজকের এই দিনে তোমাদের দীনকে পূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পূর্ণকরে দিলাম। ইসলামকেই তোমাদের ওপর দীন হিসেবে মনোনীত করলাম।’( সুরা আল মায়েদাহ – ৩)
....................................................................................


{প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব বিদায় হজ্বের ভাষণকে নিজের জীবনে এপ্লাই করা, দয়া করে ভাষণের একটি কপি আপনার ঘরে রাখুন এবং ইমেইল/শেয়ার করে আপনার বন্ধুকে পড়তে সহায়তা করুন।


আজকাল মুসলিমদের অন্তরে এক রুপ এবং বাহিরে আরেক রুপ। তাই আমরা আজ অপদস্ত হচ্ছি সময়ে অসময়ে। চলুন আগে নিজের অন্তরকে ঠিক করি, আল্লাহকে ভয় করি এবং রাসুলের সুন্নত অনুসারে চলি। তাহলেই আমাদের ঈমান শক্ত হবে এবং আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শান্তি নেমে আসবে।}

মুসলমানদের দুর্ভাগ্য ও একটি দৃষ্টিভঙ্গি

মুসলমানদের দুর্ভাগ্য ও একটি দৃষ্টিভঙ্গি

Image result for spain muslim 

অবসর সময়ে যে আলোচনাগুলো মুখরোচক হয়ে ওঠে তারমধ্যে একটি হচ্ছে জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের অনগ্রসরতা। প্রায়শ কথাটা এভাবে বলা হয় যে,

‘জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনগ্রসর বলেই মুসলমানদের এই দুর্গতি।’


এটা ঠিক যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের তুলনায় প্রাচ্য পিছিয়ে রয়েছে। তবে এটাও ঠিক যে, সেই অনগ্রসরতাই এ জাতির দুর্গতি ও পরাধীনতার কারণ নয়। প্রকৃতপক্ষে সমস্যা অন্য জায়গায়। মুসলিম উম্মাহর মাঝে কিছু বৈশিষ্ট্যের জাগরণ সম্ভব হলে বিদ্যমান জ্ঞান ও প্রযুক্তিই তাদের জাতীয় প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। তাই মুসলমানদের পরাধীনতার প্রসঙ্গে জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনগ্রসরতার প্রশ্ন অবান্তর; বরং তা মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টিকে সরিয়ে দেয়, উপরন্তু' কিছু আত্মঘাতী বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

এ প্রসঙ্গে দু’টি বিষয়ে চিন্তা করা যায়। এক. আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় মুসলমানদের অংশগ্রহণ দুই. আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের পারদর্শিতা। আমাদের দেশের কথাই ধরুন। এটি একটি মুসলিম দেশ এবং এদেশের ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ মুসলিম। তবে আধুনিক শিক্ষা-ব্যবস্থাই এদেশের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রাপ্ত শিক্ষার মূলধারা। অতএব দেশের সিংহভাগ শিক্ষার্থী আধুনিক শিক্ষা-ব্যবস্থায় শিক্ষাগ্রহণ করছে। এটি শুধু বাংলাদেশের কথা নয়, সকল মুসলিম দেশে আধুনিক শিক্ষা-ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রাপ্ত। তদ্রূপ যেসব দেশে মুসলিমরা সংখ্যালঘু সেখানকার পরিসংখ্যান গ্রহণ করলেও একই চিত্র পাওয়া যাবে। সেসব দেশের অভিবাসী মুসলিম অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থানীয় শিক্ষা ধারার সঙ্গেই জড়িত এবং বলা বাহুল্য তা আধুনিক শিক্ষা। তাহলে কীভাবে বলা যায় যে, মুসলিম-সমাজে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা নেই? কোন শিক্ষিত মুসলমান যখন এমন কথা উচ্চারণ করেন তখন একটি মারাত্মক আশঙ্কা উঁকি দেয় যে, তাহলে কি মুসলমান অবচেতন মনে নিজের পরিচয়ও ভুলতে বসেছে? তারা কি শুধু মসজিদ-মাদরাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরই মুসলমান বলে ভাবতে শুরু করেছেন?

যাই হোক, দ্বিতীয় প্রসঙ্গ অর্থাৎ আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিমদের পারদর্শিতার বিষয়টিও এখান থেকে প্রমাণিত হয়। যেহেতু সিংহভাগ মুসলিম আধুনিক শিক্ষা-ব্যবস্থায় জ্ঞান অর্জন করছে তাই মুসলিম-সমাজে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের এমন কোন বিষয় আছে কি, যা নিয়ে মুসলিমরা পড়াশোনা করছেন না? বিশেষজ্ঞতা ও পারদর্শিতারও অভাব আছে বলে তো মনে হয় না। এমনকি বৈশ্বিক পর্যায়ের প্রতিভাও মুসলমানদের মধ্যে সৃষ্টি হয়নি বা হচ্ছে না এমন বলা হলে তা হবে সত্যের অপলাপ। কোন উদ্যমী ব্যক্তি যদি এ ধরনের মুসলিম প্রতিভার একটি তালিকা তৈরি করেন তাহলে, হলফ করে বলা যায়, তা বেশ দীর্ঘই হবে।

অতএব এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন যে, মুসলিম সমাজে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা নেই। কেউ হয়তো বলতে পারেন, ‘পাশ্চাত্যের সমপরিমাণ তো নেই।’ তাহলে বলব, আপনি ঠিক বলেছেন, কিন্তু এর তো প্রয়োজনও নেই। এখানে তুলনা নয়, পর্যাপ্ততাই মূল। অর্থাৎ ওদের তুলনায় আমাদের কম আছে না বেশি-এটি মূল প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের যা আছে তা কি আমাদের প্রয়োজন পূরণে পর্যাপ্ত ছিল না? অবশ্যই ছিল। সিংহভাগ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চায় সংশ্লিষ্ট থাকার পরও তা পর্যাপ্ত নয়-এটা হাস্যকর।

তাহলে কেন আমাদের প্রয়োজন পূরণ হচ্ছে না? কেন মুসলমান পরাধীন? মূল সমস্যাটা কি? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদেরকে সাহসিকতার সঙ্গে ভাবতে হবে। সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় কি হতে পারে তা পরবর্তী প্রশ্ন। প্রথমে সমস্যা নির্ণয়ে সাহসী ও ন্যায়নিষ্ঠ হওয়া অপরিহার্য। আমাদের মূল সমস্যা মাত্র একটি। আমি অত্যন্ত- স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই যে, তা হচ্ছে মুসলিম হয়েও আমরা জীবনের সকল অঙ্গনে ইসলামকে ত্যাগ করেছি।

মুসলিম জাহানের বিভিন্ন ভূখণ্ড দীর্ঘ সময় অমুসলিম উপনিবেশ দ্বারা আক্রান্ত- ছিল। সেই পরাধীনতার যুগে অমুসলিমরা আমাদের সমাজ-ব্যবস্থা, অর্থ-ব্যবস্থা ও বিচার-ব্যবস্থার যে নীতি ও কাঠামো করে দিয়েছে স্বাধীনতার পরও তা আমরা ত্যাগ করতে পারিনি। এর অনিবার্য প্রভাব পড়েছে আমাদের জাতীয় শিক্ষা-ব্যবস্থায়।

শুধু তাই নয়, পরাধীনতার যুগে তারা আমাদের যে মানস-কাঠামো তৈরি করেছে আমরা এখনও তা বহন করছি। চিন্তা ও মূল্যবোধ এবং দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্যবেক্ষণ কোন কিছুতেই আমরা স্বকীয়তায় প্রত্যাবর্তন করতে পারিনি। তাই জাতি হিসেবে মুসলিম হয়েও আমাদের সমাজ-ব্যবস্থা, অর্থ-ব্যবস্থা ও বিচার-ব্যবস্থায় এর কোন প্রভাব নেই। অতএব শিক্ষা-ব্যবস্থাতেও তা অপরিহার্যভাবেই অনুপস্থিত। আমরা পারিনি আমাদের জাতীয় শিক্ষা-ব্যবস্থাকে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ঢেলে সাজাতে, এমনকি সফলভাবে ইসলামকে অন্তর্ভুক্ত করতেও আমরা সক্ষম হইনি। ফলে লক্ষ লক্ষ মুসলিম শিক্ষার্থী জ্ঞান-বিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করলেও চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গিগত স্বাতন্ত্র অর্জনে সক্ষম হচ্ছে না। একজন অমুসলিম যেমন স্রষ্টা সম্পর্কে নিষ্পৃহ হয়ে সৃষ্টিজগতকে পর্যবেক্ষণ করে আমাদের শিক্ষিত সম্প্রদায়ও কি তা-ই করেন না? ফলে সৃষ্টির অপার রহস্য উন্মোচিত হওয়ার পরও এই জ্ঞান তাদেরকে স্রষ্টা পর্যন্ত পৌঁছুতে সাহায্য করে না।

জীবন-দর্শন ও আচরিত জীবন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এ কথা সত্য। একটি সাহসী জাতির যে স্বাধীন নির্বাচন-শক্তি থাকা অপরিহার্য আমরা তার পরিচয় দিতে পারিনি। তাই পাশ্চাত্যের জ্ঞান-বিজ্ঞানের সঙ্গে তাদের অকল্যাণকর জীবন-দর্শনও আমরা গ্রহণ করে ফেলেছি। অথচ এর কোনো প্রয়োজন ছিল না। পাশ্চাত্যের ভোগবাদী ও নাস্তিক্যবাদ কি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অপরিহার্য অনুষঙ্গ? এটা কি কোনোভাবেই সম্ভব নয় যে, আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে গ্রহণ করব, কিন্তু তা প্রয়োগ করব আমাদের নিজস্ব বিশ্বাস ও জীবন-দর্শনের আলোকে? অর্জিত জ্ঞানকে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী বিন্যাস- করে নিতে পারলে, সন্দেহ নেই, আমরাই হয়ে উঠতাম পৃথিবীর সেরা শক্তি। এটি নিছক একটি তত্ত্ব নয়, মুসলিম উম্মাহর অতীত ইতিহাস এরই জ্বলন- প্রমাণ।

আমাদের মাঝে সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ছিল পৃথিবীর নেতৃত্ব গ্রহণের এবং বিশ্ব মানবতার কল্যাণে নিবেদিত হওয়ার, কিন্তু চিন্তাগত পরাধীনতা ও নির্বিচার পরানুকরণ সেই অমিত সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, তিক্ত হলেও সত্য এই যে, সভ্যতা, আধুনিকতা, অগ্রসরতা ইত্যাদি বিভিন্ন অসার শব্দ ও অলিক কল্পনার দ্বারা দাসত্ব ও পরানুকরণকেই শিক্ষা ও শিক্ষা-ব্যবস্থার মৌলিক দর্শনরূপে গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে মুসলমানদের মানস-কাঠামো এমনভাবে গড়ে উঠছে যে, নিজ সম্ভাবনাকে অনুধাবন করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। রোগাক্রান্ত ব্যক্তি যখন রোগ সম্পর্কেই উদাসীন হয়ে যায়; তখন আরোগ্য লাভ অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে।

তবুও শেষ কথা এই যে, হতাশার ঘন আঁধারেও আশার আলোকবিন্দু দেখা যাচ্ছে। অব্যাহত জুলুম-অত্যাচার এবং শোষণ ও বঞ্চনার কারণে মুসলিম জাহানে প্রাণের স্পন্দন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ ভোগবাদী ও নিপীড়নমূলক জীবন-ব্যবস্থায় অতিষ্ঠ হয়ে অমুসলিম সমাজেও ইসলামী জীবনাদর্শের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। ওই সময়টা বোধ হয় খুব বেশি দূরে নয় যখন ইসলামই হয়ে উঠবে বিশ্ব মানবতার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। আর ইসলাম যেহেতু সর্বজনীন আদর্শ তাই তা গ্রহণ করে অন্যান্য জাতি যদি আদর্শিক প্রতিযোগিতায় অগ্রগামীও হয়ে যায় তবে আশ্চর্য হওয়ার কোনো কারণ থাকবে না। তখন মুসলিম-সমাজে, মুসলিম পিতা-মাতার সন্তান হিসেবে অতি সহজে ইসলামী পরিচয় পেয়ে যাওয়া সত্ত্বেও যারা এর মূল্য অনুধাবনে সক্ষম হয়নি তারা ঈর্ষান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেও তা কোনো সুফল বয়ে আনবে না।

কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,

‘তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তবে আমি তোমাদের পরিবর্তে নিয়ে আসব অন্য এক সম্প্রদায়। অতঃপর তারা তোমাদের মতো হবে না।’



আমাদের যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম-পরিচয় দান করেছেন তারা নিশ্চয়ই এই দুর্ভাগ্য বরণ করতে প্রসঙ্গত নই। সেক্ষেত্রে ইসলামী আদর্শের দিকেই আমাদের ফিরে আসতে হবে। সম্ভবত এখনো তার সুযোগ রয়েছে।


লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ 

Peace Be Upon You

Peace Be Upon You