Showing posts with label সময় ব্যবস্থাপনা. Show all posts
Showing posts with label সময় ব্যবস্থাপনা. Show all posts

Friday, April 1, 2016

ফজরে জেগে ওঠা: অলসতা নাকি বাস্তবতা?

আর রহমান এবং আর রহিম আল্লাহর নামে

একজন মুসলিম হিসেবে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত সময়মত জামায়াতে আদায় করা আমাদের কর্তব্য। একদিকে ভোররাতের শান্তিময় ঘুমের তীব্র আকর্ষণ এবং অন্যদিকে ঈমানের দাবী-এই দুই এর টানাপোড়েনে আমাদের অনেকেই বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যায়। তাই এই বিষয়ক উপকারী টিপস সম্বলিত অনেক লেখাও বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ব্লগে সহজলভ্য। তাহলে কেন এই লেখা? এখানে আমি মূলত বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্স থেকে এই বিষয়ক লিখাগুলিকে একত্রিত করে তার সাথে নিজের কিছু অভিজ্ঞতা মিশিয়ে মালা গেঁথেছি মাত্র।

waking-up-for-fajr-laziness-or-reality 
ফজরের সময় ঘুম থেকে ওঠার টিপসগুলোকে আমরা দুটি ভাগে ভাগ করতে পারি-
(1) Spiritual Tips
(2) Worldly Tips
আত্মিকভাবে মহান আল্লাহ’র সান্নিধ্যে আসতে না পারলে জাগতিক কোন কৌশলই আমাদেরকে ঘুম থেকে টেনে তুলতে পারবে না আর পারলেও তা হবে অনিয়মিত। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগের সময়টায় আমাদেরকে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করতে হবে। মনে রাখবেন, রাতে আমরা কী অবস্থায় ঘুমাতে যাচ্ছি তার উপর অনেকাংশে নির্ভর করে যে আমরা ফজরে জেগে উঠতে পারব কিনা। তাই এই সময়টা খুব খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে যেসব কাজ আপনাকে করতে হবে-
(১) দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হোন যে ফজরে আপনি অবশ্যই অবশ্যই উঠবেন। দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও ইচ্ছাশক্তি না থাকলে কোন লেকচার, বই, নোট, আর্টিকেল কিছুই কাজে আসবে না। এই ইচ্ছাশক্তি জাগিয়ে তোলার জন্য ফযরের সালাত জামায়াতে আদায়ের গুরুত্ব ও ফযিলত এবং সময়মত সালাত না আদায় করার শাস্তি সংক্রান্ত হাদীসগুলি পড়ে দেখতে পারেন। এমন একটি হাদীস আমরা এখানে উল্লেখ করছি-
জাবির (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন কেউ বিছানায় শয়ন করে তখন একজন ফেরেশতা ও একজন শয়তান তার কাছে আসে। ফেরেশতা বলেঃ কল্যাণ ও মঙ্গল দিয়ে (দিনের) সমাপ্তি করো। আর শয়তান বলেঃ অকল্যাণ দিয়ে সমাপ্তি করো। যদি ঐ ব্যক্তি আল্লাহর যিকর করে নিদ্রা যায় তাহলে সারারাত ঐ ফেরেশতা তাকে দেখাশোনা ও হেফাযত করেন।” [সহীহ ইবনু হিব্বান ২/৩৪৩, সনদের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।]
(২) পাপ থেকে সারাদিনই দূরে থাকতে হবে তবে বিশেষভাবে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আল্লাহর নাফরমানিমূলক কোন কাজ করবেন না। ঘুমানোর আগে ভিডিও গেম-সিনেমা-গান-সিরিয়াল-খেলা ইত্যাদি দেখবেন না কিংবা অহেতুক আড্ডা দিবেন না।
(৩) ইশার সালাতের পর লম্বা আলোচনা কিংবা প্রোগ্রাম রাখবেন না। চেষ্টা করুন, ইশার সালাতের পর যথাসম্ভব কথা কম বলতে এবং দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে।
(৩) সালাতের ন্যায় পরিপূর্ণভাবে ওজু করুন।
(৪) বিতর সালাত আদায় করুন। কুনূতের সময় আল্লাহর কাছে দূয়া করুন যেন ফজরে জেগে উঠতে পারেন। আন্তরিকভাবে আল্লাহর সাহায্য চান।
(৫) সামান্য পরিমাণ হলেও কুরআন তিলাওয়াত করুন। বিশুদ্ধ হাদীসে পাওয়া যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর আগে সূরা মূলক, সূরা সাজদা, সূরা ইসরা, সূরা যুমার, সূরা বাকারাহ এর শেষ দুই আয়াত ইত্যাদি তিলাওয়াত করেছেন। [তিরমিযী, আলবানী-সহিহুল জামি ২/৮৭৯]
(৬) বিশুদ্ধ দোয়ার বই থেকে ঘুমানোর পূর্ব মুহূর্তের দোয়াগুলি মুখস্ত করে নিন। সবগুলি না পারলেও সাধ্যমত মুখস্ত করে ঘুমানোর আগে সেগুলো পড়ার চেষ্টা করুন। ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির এর “রাহে বেলায়াত” বইটি হতে পারে এজন্য সহায়ক একটি বই।  
এগুলির সবই ঘুম থেকে জেগে ওঠার জন্য Spiritual Tips.  প্রথমেই এগুলো আয়ত্ত করার চেষ্টা করুন। আমরা ধরে নিচ্ছি আপনি এগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এরপর নিজের টিপসগুলো ট্রাই করে দেখুন-

() ১.৫ ঘন্টা ঘুমের নিয়ম

ঘুমানোর সময় থেকে ১.৫ ঘণ্টার গুণিতকে এলার্ম সেট করুন। ধরুন, আপনি ১২ টায় ঘুম যাবেন। তবে এলার্ম সেট করুন ৩(১.৫X২) টায় বা ৪:৩০(১.৫X৩) টায় বা ৬(১.৫X৪) টায় [ফযরের সময় অনুযায়ী]। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১.৫ ঘণ্টায় একটি Sleep Cycle শেষ হয় এবং তখন জেগে ওঠা সহজ হয়। এই হিসাবটি করবেন বিছানায় শোয়ার সময় থেকে নয় বরং আপনার ঘুমিয়ে পড়ার আনুমানিক সময় থেকে।

() দুপুরের ঘুম

দুপুরে খাবার পর ২০ মিনিট একটি পাওয়ার ন্যাপ নেওয়ার অভ্যাস করুন।

() এ্যালার্ম এর অভ্যাস গড়ে তুলুন

আপনার এলার্মটি বিছানা থেকে এমন দূরে রাখুন যেন তা বন্ধ করার জন্য হেঁটে যাওয়ার দরকার হয়। বিছানা থেকে হাত বাড়িয়ে বন্ধ করার দূরত্বে এলার্ম ঘড়ি/মোবাইল রাখবেন না।

() পরিবর্তন ও পুনর্বিন্যাস করুন

প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে জেগে ওঠার অভ্যাস হয়ে গেলে এলার্ম ১৫ মিনিট এগিয়ে নিয়ে আসুন। প্রথমে ৫ টায় ওঠার অভ্যাস হলে ৪:৪৫ এ ওঠার চেষ্টা করুন। এরপর ৪:৩০ এ…এভাবে ধীরে ধীরে তাহাজ্জুদে ওঠার চেষ্টা করুন। একদিনের ভেতর তাহাজ্জুদে নিয়মিত হয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখবেন না। এভাবে চেষ্টা করলে ২-১ দিন হয়ত সফল হবেন কিন্তু এরপর আবার আগের নিয়মে ফিরে যেতে হবে। তাই ধীরে ধীরে জেগে ওঠার সময় এগিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করুন।

() বিছানায় যা করা যাবে না

বিছানায় শুয়ে যাওয়ার পর মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব ইত্যাদি ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না। Wi-Fi connection থাকলে অফ করে দিন।

() বেশি করে পানি পান করুন

ঘুমানোর আগে স্বাভাবিক অভ্যাসের চেয়ে বেশি পরিমাণ পানি খেয়ে নিন। এতে সম্ভাবনা আছে যে আপনার ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে বিছানা ছেড়ে উঠতে না চাইলেও আপনি উঠতে বাধ্য হবেন। ঘুম থেকে জেগে ওঠার এই কৌশল দালিলিকভাবে প্রমাণিত না হলেও পরীক্ষিত একটি পদ্ধতি।

() নিজেকে শাস্তি দিন

সময়মত উঠতে না পারলে নিজেই নিজের শাস্তি নির্ধারণ করুন। বড় অঙ্কের টাকা দান করুন কিংবা কয়েকদিন সিয়াম রাখুন। অর্থাৎ শাস্তিটি এমনভাবে নির্ধারণ করুন যেন আপনার কষ্ট হয়। এতে কিছুতেই আপনার বিছানায় থাকতে ইচ্ছা হবে না।
সময়মত ফজরে উঠতে পারা আল্লাহর একটি নিয়ামত এবং এই নিয়ামত একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসতে পারে- এই বিশ্বাস পরিপূর্ণভাবে রেখে দ্বিতীয় পর্যায়ে যেসব টিপস আমরা আলোচনা করেছি সেগুলো পালন করতে হবে। আর আত্মিক ও আধ্যাত্মিকভাবে আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের প্রচেষ্টা ছাড়া এসব কৌশল বৃথা। তাই Spiritual Tools গুলি মনেপ্রাণে অর্জনের জন্য আমরা প্রথমে সচেষ্ট হব এবং এরপর এসব টিপস অনুসরণ করব ইনশাআল্লাহ্‌।
আল্লাহই ভালো জানেন।

সাহায্য নেওয়া হয়েছে যেখান থেকেঃ
আর আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে।

About The Author

আবু ফাতিমাহ 

 আবু ফাতিমাহ একজন প্রকৌশলী। বুয়েট হতে মেকানিক্যালে ব্যাচেলর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি ইসলামিক অনলাইন ইউনিভার্সিটিতে ইসলামিক স্টাডিজে ব্যাচেলর করছেন।

http://www.muslimmedia.info/life/waking-up-for-fajr-laziness-or-reality



এমনই এক মানব ছিলেন ইবনে তাইমিয়্যাহ

এমনই এক মানব ছিলেন ইবনে তাইমিয়্যাহ
Blog-images


ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ): ইমাম, হাফিয, ফাকীহ, মুজতাহিদ, মুফাস্‌সির, মুহাদ্দিস, মুজাহিদ …
‘তাইমিয়্যাহ’ নামটি ছিল একজন পাণ্ডিত্যপূর্ণ বিদ্বান মুসলিমাহ্‌ নারীর। তাঁর বংশ পরম্পরায় অনেকেই ছিলেম বিদ্বান আলেম, কিন্তু তাঁদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশি খ্যাতনামা ছিলেন তিনি হলেন ইবনে তাইমিয়্যাহ। ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেম ছিলেন বিধায় তিনি এই উপাধি অর্জন করেন। তাঁর মাতামহ তাইমিয়্যাহ রেখে গেছেন বহু অবদান। ইসলামের জন্য এই পরিবারের রয়েছে এক বিস্ময়কর খেদমতের ইতিহাস।

তাঁর এই অসাধারণ অবদানকে সংক্ষেপে ফুটিয়ে তোলার জন্য উল্লেখযোগ্য একটি উদাহরণ নিম্নে উল্লেখ করা হল:
তাতারী কর্তৃক ইরাক আগ্রাসনের সময়কার ঘটনা এটি। তাতারীদের আক্রমণের ভয়ে ও আতংকে মানুষজন তাদের ঘর-বাড়ি, বাসস্থান, দেশ সবকিছু ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যেতে লাগল। মাত্রই ঘটে গেল তাতারীদের দ্বারা বাগদাদের ইসলামিক গ্রন্থাগারটি সম্পূর্ণরূপে পুড়ে ফেলার ঘটনাটি। যদিও ইবনে তাইমিয়্যাহ তখন ছোট্ট একটি শিশু ছিলেন; কিন্তু তাঁর পিতামহ, পিতা, এবং চাচা-মামারা ছিলেন ওলামা-মাশায়েখ। তারা সিদ্ধান্ত নিলেন যে তারাও দেশত্যাগ করবেন। কিন্তু তারা তাদের সাথে তেমন কোন দ্রব্যাদি-জিনিসপত্র নিলেন না বরং তাদের অধিগ্রহণে থাকা সবগুলো ইসলামিক বই একটি ঝুলিতে পুরলেন এবং এই অত্যন্ত ভারি ঝুলিটি নিজ হাতে বয়ে নিয়ে চললেন।

এই বইগুলোই ইবনে তাইমিয়্যাহ উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছিলেন। তাঁর মাধ্যমেই আমরা আজও দ্বীনের বিস্ময়কর (প্রকৃত) জ্ঞান উদ্ধার করতে সক্ষম হচ্ছি। পরবর্তীতে, ঐ বেঁচে যাওয়া বইগুলোর মাধ্যমেই ইবনে তাইমিয়্যাহ জ্ঞান অর্জন করেন এবং তাঁর ৬৭ বছরের জীবনকালে লিখে গিয়েছেন ৫৯১ টি পুস্তক। ইবনে তাইমিয়্যাহ’র ছাত্রদের মধ্য থেকে মুসলিম বিশ্ব পেয়েছে তিনজন জগদ্বিখ্যাত আলেম। তারা হলেন ইবনে কাসীর, ইবনুল কায়্যিম জাওযী, এবং যাহাবী। জ্ঞান ও জ্ঞানের পণ্ডিত: এ দুটি জিনিস হল তা, যা ইবনে তাইমিয়্যাহ আমাদের মাঝে রেখে গেছেন।

বাস্তবিক অর্থে, অত্যন্ত শৈশবকাল থেকে ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর পিতামহ, পিতা ও চাচাদের মত বড় বড় আলেম-ওলামাদের সাহচর্যে লালিত-পালিত হওয়ার কারণেই জ্ঞান ও ইসলাম সম্পর্কে দীক্ষা নেওয়ার স্পৃহা অর্জন করেন। বলা যেতে পারে, তাঁর জীবনের এই অংশটুকু নিখুঁত সময় ব্যবস্থাপনার একটি অনন্য উদাহরণ। একদা ইবনে তাইমিয়্যাহর পিতা সকল বাচ্চাদের নিয়ে একটি বাগানে বেড়াতে গেলেন কিন্তু ইবনে তাইমিয়্যাহ তাদের সাথে গেলেন না। যখন তাঁর বাবা ফিরে এলেন তখন ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর বাবাকে বললেন যে, সে সময়ের মধ্যে তিনি একটি পুরো বই মুখস্ত (আয়ত্ব) করে ফেলেছেন।

ইবনে তাইমিয়্যাহকে কারাগার বরণ করতে হয়েছিল তিনবার, এবং প্রত্যেকবারই তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল কিছু নামসর্বস্ব মুসলিম কর্তৃক সেইসময়কার শাসকবর্গের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কারণে। তাঁর প্রথম কারাবন্দিত্ব ছিল গৃহবন্দিত্বের মত, যেখানে যে কেউ (মানুষজন) এসে উনার সাথে দেখা-সাক্ষাত করতে পারত কিন্তু উনি কোথাও যেতে পারতেন না। এই সময়টুকুতে উনি উনার পরকালের পুঁজি সংগ্রহ করতে থাকেন মানুষকে আদেশ-নসিহাত এবং ফতওয়া দিয়ে। দ্বিতীয়বার যখন উনাকে বন্দি করা হয় তখন উনাকে কারাগারে থাকতে হয় প্রায় এক বছরের মত।
ইত্যবসরে তিনি লক্ষ্য করেন যে মুসলিমদের অন্তরে বিভিন্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও ভ্রান্ত ধারনার অনুপ্রবেশ ইসলামিক আকীদা বিশ্বাসকে কলুষিত ও বিকৃত করে তুলছে। এই সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তাওহিদ বিষয়ক একটি বই লিখেন যার নাম “আল আকিদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ” (Al Aqeedatul Wasitiyah), যা পরবর্তীতে পরিণত হয় অন্যতম বিখ্যাত একটি ইসলামিক শিল্পকর্মে। তিনি বইটি লিখা শুরু করেন আসরের নামাযের পর থেকে এবং মাগরিবের ওয়াক্ত হতে হতেই তিনি বইটি পুরো লিখে ফেলেন! আপনি যদি বইটি পড়েন তবে দেখতে ভুলবেন না যে, তিনি অসাধারণ দক্ষতায় বইটির প্রত্যেকটি বিষয়বস্তুর পরিপ্রেক্ষিতে কুরআন মাজিদের বিভিন্ন আয়াতকে দলিল হিসেবে প্রয়োগ করেন। আসর থেকে মাগরিবের মধ্যকার আড়াই ঘণ্টার এই স্বল্প সময়ে এবং কুরআন মাজিদের অসংখ্য আয়াতকে দলিল হিসেবে ব্যবহার করে লেখা এই বইটি তাঁর কুরআনের উপর অসাধারণ দক্ষতা ও সুগভীর জ্ঞানের প্রমাণ বহন করে। তিনি শুধু সত্য ও হক্ব নিয়েই লেখেননি, পাশাপাশি মিথ্যা ও বাতিলের বিরুদ্ধে কথা বলা ও লেখার মাধ্যমে এর বিলুপ্তি ঘটান।

তিনি যখন জেলে থাকা অবস্থায় মারা গেলেন তখন জেলের মুয়াজ্জিন প্রাচিরের উপর উঠে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণা করেন। এরপর তাঁকে সমাধিস্থ করার সময় প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ তাঁর জানাযায় অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁর জন্য দু’আ করেন। ঐ যুগে ফেসবুক, টুইটার, বা হোয়াটসঅ্যাপ নামক মাধ্যমগুলো না থাকার পরেও কিভাবে অতিদ্রুত তাঁর মৃত্যুর সংবাদ দূর-দুরান্তে ছড়িয়ে পড়লো তা চিন্তা করলেই বিস্মিত হতে হয়।

এই যুগে আমাদের জীবন পুরোপুরি যান্ত্রিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর; আমাদের কর্ম ও উৎপাদনশীলতা হল যন্ত্র ও প্রযুক্তির মেজাজ-মর্জির উপর নির্ভরশীল। প্রযুক্তির চাকা ঘুরলে আমাদের জীবন চাকাও ঘূর্ণায়মান থাকে আর প্রযুক্তির চাকা থেমে গেলে আমাদের জীবনও থেমে যায়। যেমন: ওয়াশিং মেশিন, ঘড়ি, মোবাইল, গাড়ি, রান্নার ওভেন এগুলোর ঠিকঠাক মত কাজ করার উপরে আমাদের দৈনন্দিন জীবন নির্ভর করে, আর এগুলো যদি ঠিকঠাক কাজ না করে তবে দেখা যায় দিনশেষে আমাদের কিছুই করা হয়ে উঠেনি। অথচ ঐ যুগে এসবের কিছুই ছিল না, কম্পিউটার যেমন দ্রুত টাইপ করতে পারে তেমন অতিদ্রুত লেখতে পারে এরকম কোন লেখকও ছিল না, তারপরেও ইবনে তাইমিয়্যাহ প্রায় ৩ লক্ষ পৃষ্ঠার মত রচনা লিখে গিয়েছেন। আর অপরদিকে দেখা যায় যে আমাদের দিনে নিছক ১০টা পৃষ্ঠাও মনোযোগ দিয়ে পড়া হয়ে উঠে না।

আমরা প্রচুর সময় অপব্যয় করি, আর শুধু সময় স্বল্পতার অভিযোগ আনি। অথচ ইবনে তাইমিয়্যাহ সময়কে অত্যন্ত বিজ্ঞতার সহিত ব্যবহার করতেন তাঁর মাল্টি-টাস্কিং (অনেকগুলো কাজ একই সাথে করতে পারা) করার ক্ষমতার মাধ্যমে; যেমন তিনি এক বৈঠকে একই সাথে ৬০ পৃষ্ঠার ইসলামিক রচনা লিখা, ৩৫ ভলিউমের সমপরিমাণ ফাতাওয়া কম্পাইল (বিন্যস্ত) করা, এবং এক দল ছাত্রকে দেখাশোনা করা ও তাদের কুরআন ও হাদিস শিক্ষা দিতে পারতেন। তিনি তাঁর কারাগারে বন্দিত্বের জীবনকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছিলেন এবং এই সময় তিনি পূর্ণ কুরআন মাজিদ ৮০ বারের মত অধ্যয়ন করেন। জীবনে কোনদিন সময় ব্যবস্থাপনা, গঠনমূলক চিন্তাচেতনা, অথবা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির উপর কোন ধরনের কর্মশালায় অংশগ্রহণ না করেও শুধুমাত্র কুরআন অধ্যয়নের প্রতি অনুরক্ততার (আত্মিক সংযোজন) মাধ্যমে এমন এক প্রশিক্ষণ লাভ করেন যা বর্তমান বিশ্বের কোন উঁচুদরের প্রশিক্ষক দিতে পারবে না।

এমনই এক ব্যক্তিত্ব ছিলেন ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ, ইমাম, হাফিয, ফাকীহ, মুজতাহিদ, মুফাস্‌সির, মুহাদ্দিস, মুজাহিদ। আল্লাহ যেন তাঁর উপর অফুরন্ত রহমত বর্ষণ করেন।


উৎসঃ ইসলামিক অনলাইন ইউনিভার্সিটি”

 http://blog.islamiconlineuniversity.com/such-was-ibn-taymiyyah/#comment-49618
অনুবাদকঃ মিজানুর রহমান, মুসলিম মিডিয়া প্রতিনিধি।



অনুবাদ কপিরাইট © মুসলিম মিডিয়া
http://www.muslimmedia.info/islam/such-was-ibn-taymiyyah

 

Peace Be Upon You

Peace Be Upon You